এক নজরে

www.jbcinfo.com
〒272-0132
Chiba Ken, Ichikawa-shi
Minato Shinden 1-6-15
Contact:
090-6004-5848(saiful)
080-3414-2634(hasan)
080-4081-4939(Elias)
E-Mail:
saiful_saif@yahoo.com
hasansahid@yahoo.com
remika@rani.jp

কবিতা ও গান

বাস্তবতার নিরীক্ষায় --মোস্তাফিজুর রহমান (বাংলাদেশ থেকে)

আজ সেই পুরাতন রাতে
অশুদ্ধ ছন্দেরা খেলা করে পোড়াবাড়ির উঠানে
পাড়ভাঙা ঢেউয়ের আঘাত বুকে
রৌদ্রের প্রতিধ্বনি মন-প্রাসাদে
বৃষ্টির অপেক্ষায় ছুয়েছি আকাশ
দেখি মেঘমালা গিয়েছে চুরি।
তোমার শীতল চোখে
এত বিষাক্ত তাচ্ছিল্য ছিলো
কে আমায় বলবে বলো?

তুমি চলে যাওয়ায়, এই শহরের
দুপুরগুলো ম্লান হয়েছে খুব,
চুইয়ে পড়া ঘামের সাথে
রোদ ঝরেনা আর,
কাগজ কলম টেবিলে সাজিয়েও
আজ আর লেখা হয় না আমার
অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি
রোদপোড়া পাখির যাত্রা পথে।

আগের মত চন্দ্রালোকিত প্রভাত
বয়ে আনে না অপরূপ কবিতা, আনে না
আমার শিরায় তোমার স্পর্শের উচ্ছাস।
ক্লান্ত জানালার পাজরে, রোদ পড়তেই
ঘুম ভাঙে এখন;

তোমার চলে যাওয়ার পর
গান শুনিনি আর, হাহাকার প্রতিভাজুড়ে
নিস্তব্ধতা গ্রাস করেছে সারাবেলা
সেই সাথে চলে গেছে
পাথরে ফোঁটা ফুল,আর আমার ঘরে
প্রতিরাতে জ্বলে থাকা জোনাকিগুলো।
স্বপ্নের বদলে ঘরজুড়ে এখন
শূন্যতা গোঙায় অকাতরে।

শুধু সেদিনের অপেক্ষায় থাকি,
যেদিন দরজার ওপাশে এসে,
দাঁড়াবে অত্যন্ত গোপনে তুমি।
জানি সেদিন তোমার আচল
মাখবে আবার জোছনার হাওয়া।
ঝরে পড়া আলোর মিছিলে
আমার মৃত কবিতারা জাগবে নিভৃতে;
বলবে আমায়, তুলে নাও কবি
তুলে নাও তোমার কলমে
জায়গা দাও মোদের ছন্দের খাতায়।

জানি সেদিন,
ফিরে পাবো বকুলের সুবাস
পাবো হারানো দ্বীপের সন্ধান।
স্বপ্নেরা আবার মেঘ পাড়ি দেবে,
পিপিলিকা রোদ্দুর চাবি হাতে
খুলবো সুখ রাজ্যের দুয়ার।
বাইরে বিরোহী বাতাস হোক,
তবু আমি ঘুমাবো তোমার পাশে
নিস্তাপ বালিশে মাথা রেখে।



রমজানের এই রোজার মাসে --আরশাদ রহমান (কানাডা থেকে)

রমজানের এই রোজার মাসে আনন্দেরই বন্যা বয়
ইফতারীতে শাহী খাবার পাগল করা গন্ধ হয়।
সংযমেরই রোজার মাসে রসনা পূজার বাদ্দি বাজে
ইফতারীটা খাবার লাগি মন বসেনা মোটেও কাজে।
খাবার পরে নামাজ পরে রাত্তি বেলা আবার খাবো
রাত পোহাবার আগেই জেগে আরেকটি বার খাবার পাবো।

কিন্তু যারা গরিব তাঁরা যেমন ছিলো তেমন রয়
সংযমেরই মাসে দেখো খরচটা বেশ ভালই হয়।
পাপ কমেনা রোজার মাসেও দাম কমেনা বেড়েই যায়
অত্যচারী শোষক শ্রেনী গরিবেরটাও কেড়ে খায়।
অপচয়ের পরিমাণটা অনেক যেন বেড়েই যায়
খোদার নামে খাবার দাবার সবাই যেন বেশিই খায়।
কিন্তু যদি এমন হতো রোজার মাসে খেয়ে কম
সাহায্যটা পেতো গরিব নিঠুর ক্ষুধা যাদের যম।
খোদার কথা ভেবে যদি ঘুষ গ্রহীতা ঘুষনা নিতো
সাধ্যমত সবাই যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতো।
অভুক্ত সব গরিব মানুষ দুবেলা ভাত খেতে পেতো।
ঈদের দিনে সবাই হতাম সত্যিকারের আনন্দিত।



কষ্টের দিনাতিপাত: রাহমান মনি(টোকিও,জাপান।)

ঘুম থেকে ওঠতেই দেখি
রোদেলা এক সকাল,
গিন্নীর শুরু চেচাঁমেচি
ঘরেতে নেই চাল।

যেতে হবে যে বাজারে
আরও আনবে নুন,
পানের সাথে সুপারী আনবে
কিনতে ভুলনা চুন।

পান সুপারী হয় যে কিনা
কিনতে পারিনা চাল,
বাড়ী ফিরতে রাস্তায় ভাবি
খেতে হবে আজ গাল।

পুরো মাস কাজ করে
পাই যে কটি টাকা,
মাসের কয়টি দিন গেলেই
পকেট্‌টা হয় ফাকা।

সন্তানদের টিউশন ফি
সাথে বই খাতা,
খেতে হয় হিমশিম
লাগছে যে হাতপাতা।

জিনিস পত্রের বাড়ছে যে দাম
কমছে টাকার মান,
বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখা
স্রষ্টার অপার দান।



বীর তব উঠাও শির---কবি: শিকদার সাগর

বীর তব উঠাও শির, তুমি সাগ্নিক
অগ্নি গিরি নিখিল হিমাদ্রির অন্তিক।
অভয়ে চলো পথ, বাধঁন ছিন্ন কর জড়া আঁটুনীর
শ্বশৎ তব শির চির উর্ধ্ব ভাবিও বীর।

জীর্ণ যে বাধন আজ ঝরিয়া গেল পিছে
ভাবিও সে বাঁধন-মায়া ছিল অতি মিছে।
সম্মুখে যাহা দাঁড়ালো কঠোর আসিয়া
করিতে হবে জয়, তাহারে লভিয়া।

ভাবিও সদা হয়নি মোর কভু পরাজয়
আমি চির দুর্দম, আমি চির দুর্জয়।
আসেনি মোর কোন কালে, কোন কর্মের ক্ষয়,
আমি কঠোর,আমি করি সকল বিশ্ময়।

আমি স্ববিণয়, আমি মহাপ্রলয়, আমি অপ্রত্যয়
আমি যুদ্ধার ধ্বংস স্তুপে অবিনাশ যান,
আমি আন্দোলিত জনতার উগ্র শ্লোগান
আমি অগ্নি মশাল, রক্তে মাংসের গড়া স্বেত কামান।

আমি অদাবিত-অবোরোধহীন কাল তুফান
চলতি পথে পুড়ায়ে সকল করি শম্শান।
আমি নরমের লাগি মোমের চেয়ে মোম
আমি শক্তের লাগি গলাকাটা চির যম।

আমি প্রাচীর ভেদিয়া ছিনিয়া আনি মনি
আমি ঈশৎ হুন্কারে ডাকিয়া আনি মহাকালশনি।
আমি চলার পথে হানি বজ্র অশনি
আমি সদা শুনি আমার জয় ধ্বনি।

আমি খোগড়া সম তুলিয়া ঈশৎ রুক্ষ ফনি
যতো অমহৎ আত্নার মহৎ মৃত্যু ডেকে আনি।
আমি ধরণীর কোলে বসে ডাকি ধ্বংসের বাণী
আমি মায়ের গর্দানে চড়ে শির ছিন্ন করি।